আসসালামু আলাইকুম হাই আমি মোঃ মুনজুরুল, এই ওয়েবসাইট ভিজিট করার জন্য আপনাকে স্বাগতম।

নারায়ণগঞ্জ ঘাট ও বন্দরের ইতিহাস

 


✨ নারায়ণগঞ্জ ঘাট ও বন্দর – ইতিহাসের ধারাবাহিকতা
🛶 নারায়ণগঞ্জ ঘাট ও বন্দরের ইতিহাস 🏛

নারায়ণগঞ্জ শুধু একটি শহর নয়, এটি বাংলাদেশের বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র। শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে গড়ে ওঠা এই ঘাট যুগে যুগে অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও যোগাযোগের কেন্দ্রবিন্দু ছিল।

নারায়ণগঞ্জ বাংলাদেশের শিল্প ও বাণিজ্যের হৃদয়। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ ঘাট বা নারায়ণগঞ্জ বন্দর শুধু নদীপথের কেন্দ্রই নয়, বরং ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ এক অধ্যায়।

---

🏛 মোগল আমল (১৬শ – ১৮শ শতক)

নারায়ণগঞ্জ অঞ্চল মূলত বড়াল ও শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে গড়ে ওঠা নদীবন্দর।

মোগল শাসনামলে ঢাকার সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের নদীপথ ছিল অন্যতম প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম।

মসলিন কাপড়, নীল, মসল্লা, নৌকার কাঠামো ও কৃষিজ পণ্য এখানকার ঘাট থেকে জাহাজে করে বাংলার বাইরে যেত।

ঢাকার পরেই নারায়ণগঞ্জকে বলা হতো ‘বাণিজ্যের প্রবেশদ্বার’।

---

🇬🇧 ব্রিটিশ আমল (১৭৫৭ – ১৯৪৭)

ইংরেজরা নারায়ণগঞ্জকে গুরুত্বপূর্ণ কটন ও জুট (পাট) ট্রেডিং সেন্টার বানায়।

১৮৬০ সালে নারায়ণগঞ্জে ইউরোপীয় ব্যবসায়ীরা জুট প্রেস ও গুদামঘর তৈরি করে।

রেললাইন ও স্টিমারঘাট স্থাপন করে ব্রিটিশরা বন্দরকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যুক্ত করে।

ফলে নারায়ণগঞ্জ পাট রপ্তানির হাব বা কেন্দ্রে পরিণত হয়।

---

🇵🇰 পাকিস্তান আমল (১৯৪৭ – ১৯৭১)

পাকিস্তান আমলে নারায়ণগঞ্জ বন্দরের গুরুত্ব আরও বাড়ে।

এটিকে বলা হতো “Dundee of the East” বা “পূর্বের ডান্ডি”, কারণ ডান্ডির মতো পাট শিল্পের জন্য খ্যাত ছিল।

পাকিস্তানি আমলে শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ে অনেক বড় জুট মিল, গুদাম ও শিল্পকারখানা গড়ে ওঠে।

তখনকার সময়ে নারায়ণগঞ্জ বন্দর থেকে পাট, চামড়া ও কৃষিপণ্য বিপুল পরিমাণে রপ্তানি হতো।

---

🇧🇩 স্বাধীন বাংলাদেশে (১৯৭১ – বর্তমান)

স্বাধীনতার পরেও নারায়ণগঞ্জ বন্দর তার ঐতিহ্য ধরে রেখেছে।

এখনো এটি বাংলাদেশের অন্যতম ব্যস্ততম নদীবন্দর।

ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ, চাঁদপুর, বরিশালসহ সারা দেশের সাথে নৌপথে যোগাযোগের মূল ঘাট হলো নারায়ণগঞ্জ।

পাশাপাশি এখানে গড়ে উঠেছে অসংখ্য শিল্পকারখানা, গার্মেন্টস, ডকইয়ার্ড ও বাণিজ্যকেন্দ্র।

✨ নারায়ণগঞ্জ ঘাট শুধু একটি নদীপথ নয়, বরং ইতিহাসের এক অমূল্য অধ্যায়।

---

✅ সংক্ষেপে:

নারায়ণগঞ্জ ঘাট কেবল একটি বন্দর নয়, বরং বাংলাদেশের শিল্প ও বাণিজ্যের ঐতিহাসিক প্রাণকেন্দ্র, যা মোগল আমল থেকে আজ পর্যন্ত দেশের অর্থনীতি ও যোগাযোগে অমূল্য ভূমিকা পালন করছে


এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url