নাবালকের সম্পত্তি ক্রয় - বিক্রয় কখন কিভাবে বৈধ হবে? বিস্তারিত জানুন
নাবালকের সম্পত্তি ক্রয় - বিক্রয় কখন কিভাবে বৈধ হবে? বিস্তারিত জানুন
বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে নাবালক (১৮ বছরের নিচে যাদের বয়স) নিজ নামে কোনো সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয় করতে পারে না। তবে নাবালকের স্বার্থে অভিভাবক বা আদালতের অনুমতিতে এই সম্পত্তি ক্রয় বা বিক্রয় বৈধ হতে পারে। নিচে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো।
নাবালকের সম্পত্তি বিক্রয়
কারা করতে পারবেন?
পিতা → স্বাভাবিক অভিভাবক হিসেবে আদালতের অনুমতি ছাড়াই বিক্রয় করতে পারেন।
মাতা বা অন্য অভিভাবক → কেবলমাত্র আদালতের অনুমতি নিয়েই বিক্রয় করতে পারবেন।
কোন পরিস্থিতিতে বিক্রয় বৈধ হবে?
নাবালকের সম্পত্তি বিক্রি করার প্রয়োজন হতে পারে বিশেষ কিছু পরিস্থিতিতে, যেমন:
নাবালকের খাবার, শিক্ষা বা চিকিৎসার খরচ চালাতে হলে।
সম্পত্তি নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলে।
রক্ষণাবেক্ষণ খরচ আয়ের চেয়ে বেশি হলে।
সম্পত্তি দখল হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকলে।
নাবালকের সম্পত্তি ক্রয়
নাবালক নিজের নামে সম্পত্তি ক্রয় করতে পারে না। তবে তার অভিভাবক যদি তার নামে সম্পত্তি ক্রয় করেন, তাহলে তা বৈধ হবে। এ ক্ষেত্রে:
অভিভাবককে অবশ্যই নাবালকের স্বার্থ রক্ষার উদ্দেশ্যে সম্পত্তি ক্রয় করতে হবে।
কেনার সময় সকল কাগজপত্রে নাবালককে মালিক হিসেবে দেখানো হবে।
প্রাপ্তবয়স্ক হলে সেই সম্পত্তির উপর পূর্ণ অধিকার নাবালক ভোগ করবে।
আদালতের অনুমতির প্রয়োজনীয়তা
যখন অভিভাবক পিতা নন, অথবা বিশেষ কোনো বিতর্কিত পরিস্থিতি থাকে, তখন আদালতের অনুমতি ছাড়া কোনো সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয় বৈধ হবে না।
আদালত অনুমতি দেবে কেবল তখনই, যখন প্রমাণিত হবে—
বিক্রয়/ক্রয় নাবালকের কল্যাণে প্রয়োজনীয়।
সম্পত্তি বিক্রি না করলে নাবালকের অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
সহজভাবে টেবিল আকারে
বিক্রয়
অভিভাবক শর্ত
পিতা আদালতের অনুমতি ছাড়াই বিক্রি করতে পারেন
মাতা বা অন্য অভিভাবক আদালতের অনুমতি আবশ্যক
ক্রয়
শর্ত ব্যাখ্যা
নাবালক নিজে সম্পত্তি কিনতে পারে না
অভিভাবকের মাধ্যমে নাবালকের স্বার্থে ক্রয় বৈধ
বিক্রির বৈধ কারণসমূহ
কারণ উদাহরণ
মৌলিক প্রয়োজন শিক্ষা, চিকিৎসা, খাবার
ক্ষতি রোধ সম্পত্তি নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি
খরচ বেশি রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় আয় থেকে বেশি
দখল রোধ অবৈধ দখল ঠেকানো
উপসংহার
নাবালকের সম্পত্তি বিক্রয় বা ক্রয়ের পুরো বিষয়টি মূলত তার কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্যই বৈধ হয়। আইন নাবালকের অধিকার রক্ষার জন্য কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তাই এই ধরনের যেকোনো পদক্ষেপ গ্রহণের আগে অবশ্যই অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টদের আইনি পরামর্শ নেয়া উচিত।
.jpg)