আসসালামু আলাইকুম হাই আমি মোঃ মুনজুরুল, এই ওয়েবসাইট ভিজিট করার জন্য আপনাকে স্বাগতম।

মহাবিশ্বের বাইরে কি আছে?আপনি জানলে আবাক হবেন



মহাবিশ্বের বাইরে কি আছে?  “মাল্টিভার্স” কি সত্যিই হতে পারে? বিস্তারিত পড়ে দেখুন-

ধরুন, আপনি রাতের আকাশের দিকে তাকিয়ে আছেন। অসংখ্য তারা, গ্যালাক্সি, নীহারিকা। 

হঠাৎ মাথায় প্রশ্ন এল-

“এই বিশাল মহাবিশ্বের বাইরে কি আছে?”

“আমাদের এই ইউনিভার্স কি একাই, নাকি পাশের ঘরে আরেকটা ইউনিভার্স চা খাচ্ছে?” 

এই প্রশ্নগুলোই বিজ্ঞানীদের ঠেলে দিয়েছে এক আজব ধারণার দিকে, নাম মাল্টিভার্স।

চলুন, সহজ ভাষায়, মজার ভঙ্গিতে পুরো ব্যাপারটা খুলে দেখা যাক।

আগে বুঝি, ‘মহাবিশ্ব’ মানে কী?

মহাবিশ্ব বা Universe বলতে আমরা বুঝি

সব গ্যালাক্সি

সব তারা, গ্রহ

সময়, স্থান, শক্তি, পদার্থ

সব মিলিয়ে যা কিছু আছে এবং যা কিছু ঘটছে, তার পুরো প্যাকেজ 


বিজ্ঞান বলছে, এই মহাবিশ্বের বয়স প্রায় ১৩.৮ বিলিয়ন বছর। শুরু হয়েছিল এক বিশাল ঘটনার মাধ্যমে, যাকে আমরা বলি বিগ ব্যাং 


তাহলে প্রশ্ন, মহাবিশ্বের বাইরে কী?

এখানেই মাথা একটু চুলকাতে হয় 

কারণ বিজ্ঞান অনুযায়ী, “বাইরে” শব্দটাই একটু ঝামেলার।

কারণ-

স্থান আর সময় দুটোই মহাবিশ্বের ভেতরে

তাই মহাবিশ্বের “বাইরে” বলতে গেলে, সেটা আমাদের সাধারণ কল্পনার বাইরে চলে যায়

সহজ করে বললে-

মাছ যেমন পানির বাইরে কী আছে তা জানে না

আমরাও তেমনই, মহাবিশ্বের বাইরে কী আছে, সেটা কল্পনা করা কঠিন

এখানেই হাজির হয় এক সিনেমাটিক ধারণা 

মাল্টিভার্স থিওরি

মাল্টিভার্স কী?


মাল্টিভার্স মানে

আমাদের এই ইউনিভার্স একা না

আরও অনেক ইউনিভার্স থাকতে পারে

 প্রত্যেকটার নিয়ম আলাদা হতে পারে

মানে কী?

কোথাও মাধ্যাকর্ষণ বেশি

কোথাও সময় উল্টো দিকে চলে 

কোথাও আপনি বিজ্ঞানী, আর আমি ফেসবুক ইনফ্লুয়েন্সার 

এই সব ইউনিভার্স মিলেই হচ্ছে Multiverse।

বিজ্ঞানীরা কেন মাল্টিভার্স ভাবছেন?

এটা কোনো গল্পকারের কল্পনা না। বেশ কয়েকটি সিরিয়াস বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব থেকে এই ধারণা এসেছে।


ইনফ্লেশন থিওরি-

বিগ ব্যাংয়ের পর মহাবিশ্ব অসম্ভব দ্রুতগতিতে ফুলে উঠেছিল।

কিছু বিজ্ঞানী বলেন

এই ফুলে ওঠা হয়তো এক জায়গায় থামেনি

 বিভিন্ন জায়গায় আলাদা আলাদা “বুদবুদ ইউনিভার্স” তৈরি হয়েছে 

আমাদের ইউনিভার্স হয়তো সেই বুদবুদগুলোর একটি।

কোয়ান্টাম মেকানিক্সের ঝামেলা-


কোয়ান্টাম দুনিয়ায় জিনিসপত্র খুবই অদ্ভুত

একটি কণা একসাথে একাধিক অবস্থায় থাকতে পারে।


একটি তত্ত্ব বলে

 প্রতিটি সম্ভাবনার জন্য আলাদা ইউনিভার্স তৈরি হয়

মানে

এক ইউনিভার্সে আপনি এই পোস্ট পড়ছেন

আরেক ইউনিভার্সে আপনি স্ক্রল করে পাশ কাটিয়ে গেছেন 


 স্ট্রিং থিওরি

স্ট্রিং থিওরি বলে

 সবকিছু তৈরি হয়েছে ক্ষুদ্র “স্ট্রিং” দিয়ে

এই স্ট্রিংগুলো বিভিন্নভাবে কম্পন করে

ফলে অসংখ্য ভিন্ন ইউনিভার্স সম্ভব

গণনা করে বিজ্ঞানীরা বলছেন

সম্ভাব্য ইউনিভার্সের সংখ্যা হতে পারে

10 এর ঘরে 500 শূন্য! 

গণিত দেখেই মাথা গরম।


তাহলে মাল্টিভার্স কি প্রমাণিত?


সংক্ষেপে উত্তর

না, এখনো না

কিন্তু

এটা পুরোপুরি কল্পকাহিনি নয়

অনেক নামকরা বিজ্ঞানী এই ধারণাকে গুরুত্ব দেন

গবেষণা চলছে, নতুন ডেটা আসছে

সমস্যা একটাই

 অন্য ইউনিভার্সের সাথে সরাসরি যোগাযোগ বা পর্যবেক্ষণ করা যায় না

এখনো পর্যন্ত না 

সিনেমা কি আমাদের বেশি কল্পনা শেখাচ্ছে?

অবশ্যই!

Marvel, DC, Netflix সবাই মাল্টিভার্স নিয়ে খেলছে 

কিন্তু

সিনেমায় যা দেখানো হয়, সেটা

 বাস্তব বিজ্ঞানের উপর ভিত্তি করে

 কিন্তু অনেকটা রঙচঙে করে

বিজ্ঞান ধীরে হাঁটে, সিনেমা দৌড়ায় 


তাহলে আসল মজা কোথায়?

এই প্রশ্নগুলোর মধ্যেই মজা

আমরা একা নই কি?

বাস্তবতা কি আমাদের ধারণার চেয়েও বড়?

আমাদের জীবন কি কসমিক লটারির ফল? 

এই প্রশ্নগুলো মানুষকে ভাবায়, বিজ্ঞানকে এগিয়ে নেয়।


শেষ কথা-

মহাবিশ্বের বাইরে কী আছে, আমরা এখনো নিশ্চিতভাবে জানি না।

মাল্টিভার্স সত্যি কিনা, সেটাও প্রমাণ হয়নি।

কিন্তু

 প্রশ্ন করাটাই বিজ্ঞান

 কৌতূহলই মানুষের আসল সুপারপাওয়ার 

হয়তো একদিন

আমরা জানব

এই ইউনিভার্স একা, নাকি অসংখ্য ইউনিভার্সের ভিড়ে আমরা শুধু একটা ছোট্ট ঠিকানা 

আপনি কী মনে করেন?

মাল্টিভার্স বাস্তব, নাকি শুধু কসমিক কল্পনা?

কমেন্টে আপনার ইউনিভার্স থেকে মতামত পাঠান 



এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url