ইনসুলিন যখন খুনের অস্ত্র: একটি ভয়ঙ্কর বাস্তবতা না দেখলে বিপদে পরতে পারেন আপনিও
ইনসুলিন যখন খুনের অস্ত্র: একটি ভয়ঙ্কর বাস্তবতা
ইনসুলিন, যা সাধারণত ডায়াবেটিস রোগীদের জীবন বাঁচাতে ব্যবহৃত হয়, সেই ইনসুলিনই কখনো কখনো হয়ে ওঠে এক নীরব, মারাত্মক খুনের অস্ত্র। এটি এমন এক রাসায়নিক যা সঠিকভাবে ব্যবহারে জীবন রক্ষা করে, কিন্তু অতিরিক্ত পরিমাণে প্রয়োগ করলে মৃত্যুও ঘটাতে পারে। তাই একে বলা হয় "দুইধারী তরবারি"।
কীভাবে ইনসুলিন খুনের জন্য ব্যবহার হয়?
ইনসুলিন শরীরের রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমিয়ে দেয়। যদি কোনো সুস্থ মানুষের শরীরে অতিরিক্ত ইনসুলিন ঢোকানো হয়, তাহলে তার রক্তে শর্করার মাত্রা বিপজ্জনকভাবে কমে যায়—এই অবস্থাকে বলা হয় হাইপোগ্লাইসেমিয়া। এতে দ্রুত ঘাম, মাথা ঘোরা, অজ্ঞান হওয়া, খিঁচুনি এবং মৃত্যুও হতে পারে।
কেন এটি খুনের জন্য "আদর্শ" হাতিয়ার?
১. সনাক্ত করা কঠিন:
ইনসুলিন শরীরে প্রাকৃতিকভাবেও তৈরি হয়, তাই অতিরিক্ত ইনসুলিন ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে কিনা, তা প্রমাণ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
২. মৃত্যুর কারণ বোঝা কঠিন:
হাইপোগ্লাইসেমিয়ার লক্ষণগুলো স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাকের মতোই, ফলে অনেক সময় মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নজরে আসে না।
৩. নীরব ও চিহ্নহীন:
ইনসুলিন ইনজেকশনের দাগ খুব ছোট হয় এবং শরীরে সহজে ধরা পড়ে না।
বাস্তব ঘটনার উদাহরণ:
চার্লস কুলেন নামের একজন নার্স আমেরিকায় বহু রোগীকে অতিরিক্ত ইনসুলিন দিয়ে হত্যা করেন। তিনি প্রায় ৩০-৪০ জনের মৃত্যু ঘটিয়েছেন বলে জানা যায়।
কিছু ক্ষেত্রে আত্মহত্যার মাধ্যম হিসেবেও ইনসুলিন ব্যবহৃত হয়েছে।
সতর্কতা ও শিক্ষা:
এই ঘটনা থেকে আমরা বুঝি, চিকিৎসা বিজ্ঞানের আশীর্বাদ যদি ভুল হাতে পড়ে, তাহলে তা হয়ে উঠতে পারে এক ভয়ঙ্কর অভিশাপ। ইনসুলিনের মতো জীবনদায়ী ওষুধও তখন প্রাণনাশক হয়ে ওঠে। তাই চিকিৎসা সরঞ্জাম ব্যবহারে কঠোর নিয়ন্ত্রণ, নজরদারি এবং সঠিক সচেতনতা থাকা অত্যন্ত জরুরি।
যে অস্ত্র জীবন বাঁচাতে তৈরি, তা-ই যদি জীবন হরণে ব্যবহৃত হয়, তাহলে তার ভয়াবহতা কল্পনাতীত। ইনসুলিন তেমনই এক নিঃশব্দ খুনি হয়ে উঠতে পারে—যদি তা হয় দুষ্ট ইচ্ছার হাতিয়ার। তাই চিকিৎসকের পরামশ ছাড়া কিছু করবেন না
